style="display:block"
data-ad-client="ca-pub-3491904654060593"
data-ad-slot="3563240063"
data-ad-format="auto">

বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬



অভিশপ্ত জীবন


               ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী আরিফা এখনো গোধলী বিকালে রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে দুর আকাশের দিকে ছলছল চোখে নিয়মিত তাকিয়ে থাকে । বিগত কয়েকটা বছর তার জীবনে ঘটে গেছে কিছু বিস্ময়কর ঘটনা যা তার বর্তমান ঘটনার জন্য দায়ী । তখন আরিফা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী । মায়ের সংসারের একমাত্র মেয়ে সে । বাবা অনেক আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অপারে চলে গেছেন । মা একমাত্র ব্যক্তি যার পেশা টিউশনি । টিউশনি করে যে টাকা পায় তা দিয়ে মা মেয়ের খাওয়া পরা বাসা ভাড়া এবং পড়াশুনার খরচ চলে । আরিফা অবশ্যই ভাল ছাত্রী ,কেননা সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী । মা যখন টিউশনিতে চলে যায় তখন থেকে সে একা হয়ে যায় এবং সে একাকী বাসায় থাকে যা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল । এভাবে একাকী জীবন আরিফার কখনও ভাল লাগত না । কিন্তু মায়ের কড়া শাসন এবং নজরদারি তাকে আটকা ঘরে থাকতে বাধ্য করেছে । এভাবে কেটে গেছে আরিফার জিবনের সতেরটি বছর । আরিফা এসবের মাঝ দিয়েই ভালফলাফলের সাথে এইচ এস সি পাশ করেছে এবং নিজেকে দেশের সর্বচ্চো বিদ্যাপিঠে ভর্তি করেছে । এভাবে তিনটা বছরও সে পার করে ফেলেছে । আশেপাশের পরিবেশ এবং একাকী জীবন তাকে সব সময় কুড়ে কুড়ে খেতো । নিজের ভেতর সব সময় কি যেন শূন্য শূন্য মনে হত তার । একাকী জীবন তার আর ভাল লাগত না । তার সব সময় মনে হতো একজন সঙ্গী যদি সে খুজে পেত তাহলে নিজের ভিতর হইত শান্তি লাগত । এভাবেই কাটতে থাকে আরিফার দিন । নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া এবং আবদ্ধ অবস্থায় ঘরে থাকা । এভাবে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার মাঝে আরিফার প্রায়ই তার দেখা হত পাশের বাসার জীবনের সঙ্গে । মাঝে মাঝে কথা ,কথা বলা থেকে ভাল লাগা এবং ভাল লাগা থেকে ভালবাসা । এভাবে কিসুদিন প্রেম করতে থাকে জীবনের সঙ্গে । এ সময় আরিফার মা লক্ষ্য করতে থাকে যে কিছু দিন আরিফা দেরি করে বাসাই ফিরছে । সে আরও বুঝতে পারে যে আরিফা কেন জানি আগের থেকে বেশি আনন্দিত থাকে । মা এখন নজরদারি বেশি করে করছে আরিফার উপর । আরিফাকে সে অনেকগুলা খারাপকথাও বলেছে কেননা পাশের বাসার একটি ছেলের সাথে আরিফা মেলামেশা করছে এটা তার জানার বাইরে নয় । জীবনের পরিচয় ভাল করে জানার প্রয়োজনিয়তা অনুভব করেনি কারন একটাই তার একাকীত্বতা । মায়ের কথা মনে না রেখে কিছু দিন পর কাম্পাস থেকে ফেরার পথে জীবনের সাথে ঘুরতে চলে যায় আরিফা । যে সময় আরিফা বাসায় ফেরে তআর থেকে দু ঘন্টা বেশি হয়ে যায় কিন্তু আরিফা বাসায় ফেরে না । সে দিন বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল । সময় যত বাড়ছিল মায়ের চিন্তা ও বাড়ছিল । যে মেয়ে কোনদিন সন্ধার পরে বাসার বাইরে থাকে নি সে আজ রাত হয়ে যাচ্ছে তবুও বাসায় ফিরছে না তার উপর আবার বৃষ্টি । দরজার সামনে মা অপেক্ষা করছে আর নানান চিন্তা তার মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে । ওনেক্ষন পর ভিজতে ভিজতে দরজার সামনে হাজির আরিফা । মায়ের কোনকিছু আর বুঝতে বাকি রইল না । কোন কথা না বলে আরিফা ঘরে ধুকতেই দরজা বন্ধ করে দিয়ে সুরু করে দিল আরিফার উপর ওকথ্য নির্যাতন । সব মুখবুঝে সহ্য করল আরিফা । পরদিন সকালেই কাউকে কিছু না বলে আরিফা জীবনকে বিয়ের প্রস্তাব জানাই । জীবনও তাতে সায় দেয় এবং দুজনে কাজী অফিস থেকে বিয়ে করে নেয় । জীবন থাকত তার বনের বাসায় । বিয়ের পর জীবন তার বোনকে ফোন করে । তার বোনের পরামর্শ অনু্যায়ী আরিফা কে নিয়ে চলে যায় তার গ্রামের বাড়ি । সেখানে আরিফা জীবনের মা কয়েক ভাই এবং ভাবিদের দেখতে পায় । কিছুদিন ভালই কাঠছিল তাদের দাম্পত্য জীবন । কয়েকমাস পর আরিফা কোন কারনে আলমারি খুলতেই দেখতে পায় কিছু কাগজ যেখান থেকে তার এতা জানতে বাকি থাকে না যে জীবন এস এস সি পাশও না । একথা জেনেও আরিফা কাউকে কিছু বলে না । আরিফা নিজের ভিতর কষ্ট পেতে থাকে কেননা সে জানত জীবন অনার্স পাশ । সাংসরিক জীবনের সুরুতেই পেল প্রথম ধাক্কা । এভাবে কিছুদিন যেতে থাকে আরিফা দেখতে পায় তার শাশুড়ী এবং ভাবিরা তার সঙ্গে আগের মতো ভাল ব্যাবহার করছে না এবং আরিফাকে দেখলেই তারা যেন কি বলাবলি সুরু করে দেয় । এসবের উদ্দ্শ্য খুঝতে গিয়ে আরিফা জানতে পারে যে জীবনের বর্তমান মা তার আসল মা নয় । এটা তার সৎ মা । তখন সে বুঝতে পারে জীবনের আপন বলতে পৃথিবীতে কেউ নেই । এটা তার ছিল আর একটা ধাক্কা । আস্তে আস্তে আরিফা দেখতে পায় সে ওই বাড়িতে একজন ঘৃনার পাত্রী হয়ে দাড়িয়েছে । আরিফা দেখতে পায় জীবন প্রায়ই রাত করে ফেরে । এখন সে আর আগের মত আরিফাকে কেয়ার করে না । এভাবে কিছু দিন পার হওয়ার পর আরিফা দেখতে পায় জীবন সন্ধার কয়েকটা লোক নিয়ে বাড়িতে ফেরে । আরিফা জানতে চাইলে জীবন বলে ওরা তার বন্ধু । আরিফা আর ও লক্ষ্য করে যখন জীবন ওদের নিয়ে বাসায় ঢোকে তখন আরিফাকে রুম থেকে বের করে দেয়া হয় । এরকম চলতে থাকে । সব কিছুর পরও আরিফা জীবনকে প্রচণ্ড ভালবাসত কারন জীবনই ছিল তার বাচার একমাত্র অবলম্বন । আরিফা জীবনের কাছে জানতে চাই ওদের নিয়ে সন্ধাই রুমে ঢুকে একসাথে কি করে । জীবন কোনভাবেই বলে না । কোন একদিন ওরা রুম থেকে বের হওয়ার পর আরিফা খুজতে থাকে ওরা কি করেছে । আরিফা খুজতে খুজতে দেখতে পায় সাদা সাদা কাগজে কিছু পদার্থ লেগে আছে । আরিফা বুঝতে পারে এগুলো নেশাজাত পদার্থ । আরিফা জীবনের মাকে সব খুলে বলে । কিন্তু জীবনের মা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয় না । আরিফা দেখতে পায় জীবন প্রায়ই মাতাল অবস্থায় বাড়ি ফেরে । আরিফার প্রত্যেকটি স্বপ্ন এভাবে ভেঙ্গে যেতে থাকে । জীবন এভাবেই চলতে থাকে ,সে প্রতিটাদিনই নেশা করে । কিছুদিন পর এক সন্ধাই জীবন আগের মতই মাতাল অবস্থায় বাড়ি ফেরে ,আরিফা তাকে ঘরে ঢুকিয়ে শুইয়ে দেয় । রাত কিছুটা গভীর হলে জীবনের মোবাইলে একটা কল আসে । জীবন কাউকে কিছু না বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায় । আরিফা তাকে আটকানোর চেষ্টা করে কিন্তু জীবন তার কত্থা না রেখে চলে যেতে থাকে । এসময় আরিফা তার শাশুড়িকে জানায় ,তার শাশুড়ি জীবনকে আটকানোর কোন চেষ্টা করে না । বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় জীবন । পর দিন সকাল গড়িয়ে দুফুর হয়ে যায় জীবন আর ফিরে আসে না । আরিফা আসেপাশে খোজ নেয় কিন্তু জীবনের কোন সন্ধান সে পাই না । দুই দিন যাওয়ার পরও যখন জীবন ফিরে না আসে তখন আরিফা থানাই যায় এবং একটা জিদি করে আসে । তিন দিন যাওয়ার পরও জীবন বাড়ী ফেরে নি । পরদিন কোন একটি ডাস্টবিনে একটি লাশ পড়ে আছে এরকম খবর শুনতে পায় আরিফা । সেখানে ছুটে যায় আরিফা দেখতে পারে সেতা জীবনের লাশ । লাশের গা থেকে গন্ধ বের হচ্ছে । যে কেউ দেখে চিনতে পারবে না যে এটা জীবনের লাশ । আরিফা জীবনের মাথাটাকে কোলের ভিতর নিয়ে চিৎকার করে কাদতে থেকে । তার কান্নায় আকাশ বাতাশ মুখরিত হতে থাকে । সে ভাবতে থাকে পৃথিবী থেকে আজ সে সব হারিয়ে ফেলেছে । সব কিছু বিসর্জন দিয়ে যে আরিফা চলে এসেছিল জীবনের সাথে সেই আজ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল । কি নিয়ে বাচবে আরিফা । এভাবে জিবন্ত কবর হয়ে গেল একটা ভালবাসার , যে ভালবাসার টানে নিজের মাকে ফেলে রেখে চলে এসেছিল আরিফা । হয়ত বা সেই জীবন্ত মেধা কোন একদিন কাজে লাগবে দেশের তরে ।